মহাসড়কের ওজন স্কেল প্রত্যাহার দাবি খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের

দেশের কোনো মহাসড়কে ওজন স্কেল নেই। শুধুমাত্র ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রয়েছে। এতে করে চট্টগ্রামে পণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। ফলে ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। এমনটি দাবি করে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দারোগাহাট এবং কুমিল্লার দাউদকান্দিতে স্থাপিত ওজন স্কেল প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা।

তারা বলছেন, দেশের কোনো মহাসড়কে ওজন স্কেল না থাকলেও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রয়েছে। এক দেশে দুই আইন চলতে পারে না।

বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে খাতুনগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন করেন ব্যবসায়ীরা। এসময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন।

ওজন স্কেলের কারণে খাতুনগঞ্জের ব্যবসা সংকুচিত হয়ে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে চাক্তাই খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ওজন স্কেল। এই ওজন স্কেলের কারণে বর্তমানে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা ছয় চাকার একটি ট্রাক কিংবা কাভার্ডভ্যানে ১৩ টনের বেশি পণ্য আনতে পারছে না। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ছাড়া দেশের আর কোনো মহাসড়কে ওজন স্কেল নেই। ফলে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী এই নেতা বলেন, এক দেশে কখনো দুই আইন চলতে পারে না। বর্তমানে এই ওজন স্কেল ব্যবসায়ীদের কাছে বিষফোঁড়ার মতো। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সিংহভাগ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পরিচালিত হয়। এই বন্দর দিয়ে আমদানি করা বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল ও সব ধরনের পণ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহন হয়ে থাকে। তাই ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিবন্ধক এই ওজন স্কেল প্রত্যাহার করা জরুরি।

তিনি জানান, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, এফবিসিসিআই সভাপতি এবং চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি বরাবরে চিঠি ও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরও ওজন স্কেল প্রত্যাহার হয়নি।

চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ওজন স্কেলের কারণে আমরা ব্যবসায়ীরা দিন দিন পিছিয়ে পড়ছি। তাই ওজন স্কেল প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।